কিছু গল্প আছে যেগুলো পড়তে বা দেখতে বসলে মনে হয় এটা কারো না কারো জীবনের গল্প। হয়তো তোমার, হয়তো আমার। 'মুসাফির ক্যাফে' ঠিক সেই রকম একটা সিরিজ। নেটফ্লিক্সে বসে দেখা শুরু করলাম, আর প্রথম এপিসোড শেষ হতে না হতেই বুঝে গেলাম এটা শেষ না করে উঠতে পারব না।
চান্দর একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, স্বপ্ন দেখে পাহাড়ে একটা ছোট্ট ক্যাফে খুলবে। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের সেটআপে সুধার সাথে দেখা। দুজনের স্বপ্ন আলাদা, জীবন আলাদা, তবু একটা টান তৈরি হয়। তারপর ৮ বছর পর প্রীতি নামের আরেক মেয়ে আসে চান্দরের জীবনে। দুটো টাইমলাইনে এই তিনজনের গল্প এগোয়, প্রেম বেছে নেওয়া আর না-বেছে নেওয়ার ভার নিয়ে।
বিক্রান্ত ম্যাসির চোখের অভিনয় নিয়ে আলাদা করে বলতে হবে। একই মানুষ দুটো আলাদা সময়ে এত আলাদাভাবে কথা বলেন, ৮ বছর আগের চান্দরের চোখে যে উত্তেজনা, ৮ বছর পরে সেখানে একটা পরিচিত ক্লান্তি। মহিমা মাখওয়ানা প্রীতি চরিত্রে এই সিরিজের সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে। ভালোবাসায় যে শান্ত আত্মবিশ্বাস তিনি এনেছেন, সেটা দেখে মনে মনে তার জন্য কষ্টও লাগে, আবার ভালোও লাগে। মুসৌরির পাহাড় আর সেই ক্যাফেটা শুধু পটভূমি না, এটা গল্পের আরেকটা চরিত্র হয়ে উঠেছে।
শেষটা নিয়ে একটু আক্ষেপ থেকেই গেছে। সিজন ২-এর জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কিছু এপিসোডে গতি একটু ধীর লাগে। কিন্তু এই সিরিজ যে উষ্ণতা আর ধীর সুন্দর অনুভূতি দিয়ে যায়, সেটা অনেকদিন মনে থাকবে। যারা ভালোবাসা আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাঝখানে কখনো আটকে গেছেন, তাদের জন্য এই সিরিজ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!