তার বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে নতুন আল্ট্রাসাউন্ড পেসমেকার
গবেষকরা এমন একটি পরীক্ষামূলক পেসমেকার তৈরি করেছেন, যা প্রচলিত পেসমেকারের মতো হৃদপিণ্ডের ভেতরে তার বা কোনো যন্ত্র বসানোর প্রয়োজন ছাড়াই কাজ করতে পারে। এর পরিবর্তে এটি ব্যবহার করে আল্ট্রাসাউন্ড।
ডাকটিকিটের মতো ছোট এই পরিধানযোগ্য যন্ত্রটি বুকের ওপর বসানো হয় এবং শরীরের ভেতর দিয়ে নির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত শব্দতরঙ্গ (focused ultrasound) পাঠিয়ে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
গবেষণাগারে তৈরি মানুষের হৃদপেশির কোষ এবং ইঁদুরের ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি হৃদপিণ্ডের ভেতরে কোনো হার্ডওয়্যার স্থাপন না করেই স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে?
এই প্রযুক্তি Sonogenetics নামের একটি পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
প্রথমে গবেষকরা হৃদপিণ্ডের নির্দিষ্ট কিছু কোষকে এমনভাবে পরিবর্তন করেন, যাতে সেগুলো আল্ট্রাসাউন্ডের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
এরপর বুকের ওপর থাকা ওয়্যারেবল প্যাচটি যখন আল্ট্রাসাউন্ডের পালস পাঠায়, তখন ওই পরিবর্তিত কোষগুলোর বিশেষ কিছু চ্যানেল খুলে যায়।
এর ফলে কোষের ভেতরে ক্যালসিয়াম প্রবেশ করে।
ক্যালসিয়াম হলো হৃদপেশির সংকোচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত। ফলে গবেষকরা ইলেকট্রোড দিয়ে হৃদপিণ্ডে সরাসরি স্পর্শ না করেই প্রতিটি হৃদস্পন্দন উদ্দীপিত করার সুযোগ পান।
সহজভাবে বললে—
ওয়্যারেবল প্যাচ
↓
আল্ট্রাসাউন্ড তরঙ্গ পাঠায়
↓
পরিবর্তিত হৃদকোষ শব্দতরঙ্গে সাড়া দেয়
↓
ক্যালসিয়াম কোষে প্রবেশ করে
↓
হৃদপেশি সংকুচিত হয়
↓
হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রিত হয়
ভবিষ্যতে এর গুরুত্ব কী হতে পারে?
প্রযুক্তিটি আরও উন্নত ও নিরাপদভাবে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করা সম্ভব হলে, এটি প্রচলিত পেসমেকারের কিছু বড় সীমাবদ্ধতা কমাতে পারে।
যেমন—
- হৃদপিণ্ডে অস্ত্রোপচার করে যন্ত্র বসানোর প্রয়োজন কমতে পারে
- হৃদপিণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তার বা electrical leads-এর প্রয়োজন কমতে পারে
- ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য বারবার চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে
- হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ একই ওয়্যারেবল যন্ত্রের মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে
ভবিষ্যতে একই ধরনের একটি ওয়্যারেবল প্যাচ হয়তো হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি অস্বাভাবিক ছন্দ শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা সংশোধনও করতে পারবে।
অর্থাৎ, একসময় এমন একটি নন-ইনভেসিভ বা শরীরে অস্ত্রোপচার ছাড়াই ব্যবহারযোগ্য যন্ত্র তৈরি হতে পারে, যা একই সঙ্গে হৃদপিণ্ডের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো পরীক্ষামূলক গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। প্রাণী ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফলকে সরাসরি মানুষের চিকিৎসায় কার্যকর প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। মানুষের ওপর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন।
📄 গবেষণাপত্র:
DOI: 10.1038/s41551-026-01673-z
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!