বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রতিদিনের চা-কফির মতো সাধারণ অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটিও বিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয়।
অস্ট্রেলিয়ার Flinders University-এর গবেষকেরা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৯,৭০৪ জন নারীকে নিয়ে ১০ বছর ধরে এমনই একটি গবেষণা করেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nutrients জার্নালে।
গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের চা ও কফি খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে তাদের হাড়ের খনিজ ঘনত্ব বা Bone Mineral Density (BMD) মিলিয়ে দেখেছেন। বিশেষভাবে দেখা হয়েছে হিপ ও ফিমোরাল নেকের হাড়, কারণ অস্টিওপোরোসিসে এই জায়গাগুলোতে ভাঙার ঝুঁকি বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান করা নারীদের মোট হিপের হাড়ের ঘনত্ব সামান্য বেশি ছিল। অন্যদিকে দিনে ২–৩ কাপ কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্বে কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি।
তবে ছবিটা বদলে যায় কফির পরিমাণ বেশি হলে। যারা দিনে ৫ কাপের বেশি কফি পান করতেন, তাদের হাড়ের ঘনত্ব তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।
আরও একটি বিষয় গবেষকদের নজরে এসেছে। যারা বেশি অ্যালকোহল পান করতেন, তাদের মধ্যে অতিরিক্ত কফি পানের সঙ্গে কম হাড়ের ঘনত্বের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট ছিল। অন্যদিকে, চায়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব স্থূলকায় নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
এর পেছনে কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও রয়েছে। চায়ে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হাড় গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। আর কফির ক্যাফেইন শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সামান্য বাধা দিতে পারে। তবে কফির সঙ্গে দুধ যোগ করলে এই প্রভাব কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তবে গবেষণাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গবেষকেরা কফি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেননি। বরং ফলাফলটি ইঙ্গিত করে, পরিমিত কফি পান সাধারণত হাড়ের জন্য উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু দিনে ৫ কাপের বেশি কফি নিয়মিত পান করার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে, বিশেষ করে অন্যান্য ঝুঁকির কারণ থাকলে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!