প্রথম পাতাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিইমিউন কারখানা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইমিউন কারখানা

ইমিউন কারখানা

🧬 বিজ্ঞানীরা সাধারণ চর্বি কোষকে ক্যানসার প্রতিরোধী ‘ইমিউন কারখানায়’ রূপান্তর করলেন

গবেষকরা CRISPR জিন-এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ চর্বি কোষকে শক্তিশালী ক্যানসার প্রতিরোধী কোষে রূপান্তর করার একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন। আমাদের শরীরের চর্বি টিস্যু স্বাভাবিকভাবেই অনেক ধরনের টিউমারের আশপাশে থাকে এবং ক্যানসার কোষ যে পুষ্টি-স্বল্প পরিবেশে বেড়ে ওঠে, সেখানেও টিকে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে চর্বি কোষগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছেন, যাতে তারা ধারাবাহিকভাবে ইন্টারলিউকিন-১২ (IL-12) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগপ্রতিরোধী সংকেত-প্রোটিন তৈরি করতে পারে। এই প্রোটিন T কোষন্যাচারাল কিলার (NK) কোষকে সক্রিয় করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞাপন

পরিবর্তিত চর্বি কোষগুলো সরাসরি ক্যানসার কোষকে আক্রমণ করার পরিবর্তে টিউমারের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়। সেখানে এগুলো ক্ষুদ্র জৈবিক কারখানার মতো কাজ করে এবং টিউমারের আশপাশে নিয়মিত IL-12 নিঃসরণ করে। এর ফলে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষকে আরও ভালোভাবে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।


🎯 টিউমারের কাছেই চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা

এই পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো—পরিবর্তিত কোষগুলো দীর্ঘ সময় ধরে টিউমারের আশপাশে IL-12 তৈরি করতে পারে।

শরীরের সর্বত্র একই মাত্রায় IL-12 দেওয়া হলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কিন্তু পরিবর্তিত চর্বি কোষকে টিউমারের কাছাকাছি রেখে দিলে রোগপ্রতিরোধী সংকেতটি মূলত যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই বেশি কেন্দ্রীভূত থাকে।

ফলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশে অতিরিক্ত IL-12-এর সংস্পর্শ কমিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়।


🧪 প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল

প্রাণীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই জিন-পরিবর্তিত চর্বি কোষ ব্যবহার করলে—

  • টিউমারের বৃদ্ধি ধীর হয়েছে,
  • ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া কমেছে,
  • এবং অস্ত্রোপচারের সঙ্গে ব্যবহার করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা উন্নত হয়েছে।

এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে একজন রোগীর নিজের শরীরের চর্বি টিস্যু সংগ্রহ করে সেটিকে জিন-এডিটিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবন্ত চিকিৎসা ব্যবস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব হতে পারে।

এটি একই সঙ্গে জিন-এডিটিং ও ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করে কঠিন ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

তবে এটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে থাকা একটি পদ্ধতি। প্রাণীর পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে এটি কতটা নিরাপদ ও কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

📄 Research Paper DOI: 10.1038/s41574-025-01095-y

০ মন্তব্য · ৫১ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!