পরের বার কোনো কিছু তোমাকে বিচলিত বা বিরক্ত করলে, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দুই মিনিট অপেক্ষা করো। দু’টি পা মাটিতে শক্তভাবে রাখো, কাঁধ দুটো শিথিল করো। তারপর চার গুনে শ্বাস নাও এবং ছয় গুনে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ো। এভাবে পাঁচবার করো। এই সময় তোমার অনুভূতিটাকে শুধু থাকতে দাও—সেটার ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করো না, বিচার করো না এবং অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলো না।
এবার শরীরের ভেতরে অনুভূতিটা কোথায় রয়েছে, সেটা খুঁজে দেখো। বুকের মধ্যে কি চাপ অনুভব হচ্ছে? মুখে কি গরম লাগছে? গলায় কি টান ধরেছে? নাকি পেটের মধ্যে কোনো ভারী অনুভূতি রয়েছে?
অনুভূতিটাকে একটি আকার, রং এবং গতিবিধি দাও। মন নানা গল্প তৈরি করে, কিন্তু শরীর আমাদের দেখিয়ে দেয়—সেই গল্পের অনুভূতিটা আসলে কোথায় বাস করছে।
এরপর নিজেকে নীরবে প্রশ্ন করো:
“এই অনুভূতিটা আমাকে কী থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে?”
“আমার এই অংশটাকে কত বছরের পুরোনো মনে হচ্ছে?”
“আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আমার কাছ থেকে এই অনুভূতিটির কী প্রয়োজন?”
সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত উত্তরটি খোঁজার চেষ্টা না করে, প্রথম যে সৎ উত্তরটি ভেতর থেকে আসে, তার জন্য অপেক্ষা করো।
আত্ম-নিয়ন্ত্রণ (Self-regulation) হলো এমন একটি অভ্যন্তরীণ জায়গা তৈরি করার শিল্প, যেখানে কোনো প্রতিক্রিয়া তোমার আচরণকে পরিচালনা করার আগে তুমি সেই প্রতিক্রিয়ার ভেতরে থাকা বার্তাটি শুনতে পারো।
তোমাকে যে প্রতিটি ঘটনা বা পরিস্থিতি ট্রিগার করে, তার মধ্যেই কোনো না কোনো তথ্য লুকিয়ে থাকে। উপস্থিত মন নিয়ে যখন তুমি সেই অনুভূতিকে পর্যবেক্ষণ করতে শেখো, তখন যে তাড়না একসময় তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করত, সেটিই হয়ে ওঠে নিজেকে আরও গভীরভাবে জানার একটি দরজা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!