পদার্থবিজ্ঞানীরা একটি আকর্ষণীয় সম্ভাবনার কথা খতিয়ে দেখেছেন: ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য পদার্থ হয়তো এমন এক গোপন "মিরর ওয়ার্ল্ড" বা "প্রতিচ্ছবি-জগতের" অংশ, যা আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সাথেই সহাবস্থান করে কিন্তু সাধারণ পদার্থের সাথে মূলত মহাকর্ষ বলের মাধ্যমেই কেবল মিথস্ক্রিয়া করে।
মিরর-ওয়ার্ল্ড বা প্রতিচ্ছবি-জগতের মডেলে, পরিচিত কণা ও বলগুলোর অনুরূপ কিছু কণা ও বল একটি গোপন ক্ষেত্রে (hidden sector) থাকতে পারে। মডেলভেদে সেখানে মিরর ইলেকট্রন, মিরর ব্যারিওন, মিরর ফোটন এবং অন্যান্য কণা থাকতে পারে; এগুলো মিলে এমন এক 'ডার্ক সেক্টর' বা অন্ধকার জগৎ গঠন করে যা আমাদের টেলিস্কোপের কাছে মূলত অদৃশ্য, কারণ সাধারণ আলোর সাথে এদের স্বাভাবিক কোনো মিথস্ক্রিয়া ঘটে না।
পদার্থবিজ্ঞানী রবীন্দ্র মহাপাত্র এবং নোবুচিকা ওকাদা ২০২৫ সালের এক গবেষণায় খতিয়ে দেখেছেন যে, এমন কোনো মিরর ওয়ার্ল্ড মহাজাগতিক এক কৌতূহলোদ্দীপক কাকতালীয় ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পারে কি না—আর তা হলো, মহাবিশ্বে সাধারণ পদার্থের পরিমাণের তুলনায় ডার্ক ম্যাটারের পরিমাণ মাত্র কয়েক গুণ বেশি কেন। তাঁদের মডেলে এমন কিছু পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে যেখানে মিরর ইলেকট্রন বা মিরর ব্যারিওন—যেকোনোটিই ডার্ক ম্যাটার হিসেবে কাজ করতে পারে।
সাম্প্রতিক তাত্ত্বিক গবেষণায় 'ডার্ক স্ট্যান্ডার্ড মডেল সেক্টর' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা আমাদের দৃশ্যমান জগতের সাথে কেবল মহাকর্ষীয় বলের মাধ্যমেই মিথস্ক্রিয়া করে। এমন এক গোপন জগতে নিজস্ব পারমাণবিক ও উপ-পারমাণবিক কাঠামো থাকতে পারে এবং আদি মহাবিশ্বে হয়তো এর নিজস্ব 'দশা পরিবর্তন' (phase transition) বা অবস্থার রূপান্তর ঘটেছিল।
তবে "আমাদের ঠিক পাশেই" কথাটির অর্থ এমন নয় যে, এটি অতিরিক্ত কোনো স্থানিক মাত্রায় (spatial dimension) মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত অন্য কোনো মহাবিশ্ব। অনেক মিরর মডেলে দেখা যায়, উভয় জগৎই একই সামগ্রিক স্থান-কাল (spacetime) জুড়ে অবস্থান করে কিন্তু তাদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া অত্যন্ত ক্ষীণ; ফলে মিরর সেক্টরটি কার্যত অদৃশ্যই থেকে যায়।
বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কোনো মিরর ইউনিভার্স বা প্রতিচ্ছবি-মহাবিশ্ব আবিষ্কার করতে পারেননি। বস্তুত, ২০২৬ সালের একটি পরীক্ষায় প্রায় ২৫০০ কোটি অতি-শীতল নিউট্রন পর্যবেক্ষণ করেও সাধারণ নিউট্রনগুলোর মিরর অবস্থায় হারিয়ে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; এর ফলে এই ধারণার কিছু সংস্করণের ওপর আরও কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়েছে।
তবে যদি সত্যিই কোনো মিরর সেক্টর বা প্রতিচ্ছবি-জগৎ থেকে থাকে, তবে যাকে আমরা ডার্ক ম্যাটার বলি, তা হয়তো কণা ও বলের এমন এক সম্পূর্ণ গোপন জগতের প্রতিনিধিত্ব করে যা আমাদের দৃশ্যমান পদার্থের পাশাপাশিই বিদ্যমান।
📚 উৎস: রবীন্দ্র এন. মহাপাত্র ও নোবুচিকা ওকাদা, Physical Review D (২০২৫), “Matter-dark matter coincidence and the mirror world”; ভি. কে. ওইকোনোমু, European Physical Journal C (২০২৬), “High-scale mirror standard model dark matter, dark phase transitions and gravitational waves implications”; পল শেরার ইনস্টিটিউট (২০২৬)।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!