বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর সাপের কামড়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং আরও অনেকে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন। এই সংকট মোকাবেলায় মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সাপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে নতুন এক অ্যান্টিভেনম তৈরির উপায় খুঁজে পেয়েছেন।
সাপের কামড়ের বর্তমান চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ ব্যয়বহুল এবং এর কার্যকারিতা অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। সাধারণত বড় কোনো প্রাণীর শরীরে সাপের বিষ প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিবডি সংগ্রহের মাধ্যমে এই ওষুধ তৈরি করা হয়, যা অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দীর্ঘকাল ধরে জানা ছিল যে ভাইপার জাতীয় সাপ তাদের নিজস্ব বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখে, কিন্তু ঠিক কোন উপাদানের কারণে এটি ঘটে তা এতদিন অস্পষ্ট ছিল। গ্রামীণ জনপদে কার্যকর অ্যান্টিভেনম সহজলভ্য না হওয়ায় এই সমস্যাটি একটি অবহেলিত স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
গবেষকরা ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র্যাটলস্নেকের রক্ত পরীক্ষা করে দেখেন যে, সেখানে কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন রয়েছে যা বিষের টক্সিনকে ব্লক করতে সক্ষম। ২০২২ সালে শন বি ক্যারলের নেতৃত্বে গবেষক দলটি ফেটুয়া-৩ নামক একটি প্রোটিন শনাক্ত করেন যা সাপের বিষের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় তারা এই প্রোটিনগুলোর বিভিন্ন সংমিশ্রণ ব্যবহার করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালান। এই প্রক্রিয়ায় তারা সাপের রক্ত থেকে সংগৃহীত প্রোটিনগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যা বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।
পরীক্ষাগারের ফলাফলে দেখা গেছে, এই নতুন মিশ্রণটি বর্তমানে প্রচলিত বাণিজ্যিক অ্যান্টিভেনমের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এই আবিষ্কারটি সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রকৃতির নিজস্ব সমাধান ব্যবহারের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর এবং নিরাপদ অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হবে, যা সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
প্রকৃতির নিজস্ব এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাপের কামড়ের চিকিৎসায় কতটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
সূত্র: সায়েন্সডেইলি — “Scientists discover a powerful new antivenom hidden in rattlesnake blood”
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!