প্রথম পাতাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবায়ুমণ্ডলের বাড়তি CO₂

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বায়ুমণ্ডলের বাড়তি CO₂

বায়ুমণ্ডলের বাড়তি CO₂

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে পৃথিবীর শুষ্ক অঞ্চল আরও বাড়বে, এমনটাই সাধারণ ধারণা। নতুন গবেষণা বলছে, শতাব্দীর শেষে শুষ্কভূমি পৃথিবীর স্থলভাগের ৪০ শতাংশেরও বেশি জুড়ে থাকতে পারে, তবে বায়ুমণ্ডলের বাড়তি CO₂ এই বিস্তার কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব ফরেস্ট্রির গবেষকেরা ১৯৬০ থেকে ২০২৩ সালের আবহাওয়ার তথ্য এবং CMIP6 জলবায়ু মডেল ব্যবহার করে পৃথিবীর শুষ্কভূমির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন। ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সালের হিসাবে, অ্যান্টার্কটিকা বাদে পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৩৮.৫৮ শতাংশ ইতিমধ্যেই শুষ্কভূমির অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় শুষ্কতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়েছে Aridity Index, অর্থাৎ একটি অঞ্চলে যতটা বৃষ্টিপাত হয়, সম্ভাব্য বাষ্পীভবন ও উদ্ভিদের জল হারানোর তুলনায় তার অনুপাত। এই পদ্ধতিতে ০.৬৫ এর নিচে সূচক থাকা অঞ্চলকে শুষ্কভূমি হিসেবে ধরা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৭১ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন পরিস্থিতিতে শুষ্কভূমি পৃথিবীর স্থলভাগের ৩৯.৩১ থেকে ৪০.২৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: বায়ুমণ্ডলে CO₂ বাড়লে উদ্ভিদের পাতার রন্ধ্র বা স্টোমাটা আংশিকভাবে বন্ধ হয়, ফলে উদ্ভিদের জল হারানোর পরিমাণ কমে এবং সম্ভাব্য বাষ্পীভবনের হিসাবও বদলে যায়। এই CO₂ প্রভাব হিসাবের মধ্যে রাখায় গবেষকদের পূর্বাভাস কিছু পুরনো গবেষণার তুলনায় কম হয়েছে। তবু সর্বোচ্চ অনুমান অনুযায়ী বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২৩.৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার অতিরিক্ত ভূমি শুষ্কভূমিতে পরিণত হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি হতে পারে, এরপর রয়েছে ব্রাজিল; আফ্রিকার কিছু এলাকাতেও বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। গবেষণাটি দেখায়, ভবিষ্যতের জল সংকট বোঝার ক্ষেত্রে শুধু তাপমাত্রা নয়, উদ্ভিদের জল ব্যবহারের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:

Cai et al., 2026, Over 40% of Earth Could Be Drylands by Century's End, Projections Show, Environmental Research Letters. See less

০ মন্তব্য · ৬৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!