টেলিস্কোপ কীভাবে কাজ করে?
রাতের আকাশে খালি চোখে আমরা যা দেখি, টেলিস্কোপ দিয়ে তার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি দেখা যায়। দূরের তারা, গ্যালাক্সি, নেবুলা — এগুলো টেলিস্কোপ ছাড়া দেখা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এই অসাধারণ যন্ত্রটা কীভাবে কাজ করে?
টেলিস্কোপের মূল কাজ হলো আলো সংগ্রহ করা। আমাদের চোখ ছোট বলে অল্প আলো সংগ্রহ করতে পারে। টেলিস্কোপের বড় লেন্স বা আয়না অনেক বেশি আলো সংগ্রহ করে — তাই দূরের ক্ষীণ বস্তুও স্পষ্ট দেখা যায়। টেলিস্কোপ যত বড়, তত বেশি আলো ধরতে পারে, তত দূরে দেখা যায়।
টেলিস্কোপ মূলত দুই ধরনের। প্রথমটি হলো "রিফ্র্যাক্টিং টেলিস্কোপ" — এতে লেন্স ব্যবহার হয়। আলো লেন্সের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বেঁকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হয়। গ্যালিলিও এই ধরনের টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ১৬০৯ সালে প্রথম মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
দ্বিতীয়টি হলো "রিফ্লেক্টিং টেলিস্কোপ" — এতে আয়না ব্যবহার হয়। বাঁকানো আয়না আলো সংগ্রহ করে একটি বিন্দুতে ফোকাস করে। আধুনিক বড় টেলিস্কোপগুলো সব এই ধরনের — কারণ বড় আয়না তৈরি করা বড় লেন্সের চেয়ে অনেক সহজ।
তবে সবচেয়ে উন্নত টেলিস্কোপগুলো শুধু দৃশ্যমান আলো নয় — ইনফ্রারেড, রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে — সব ধরনের আলো ধরতে পারে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ইনফ্রারেড আলোতে কাজ করে — এতে ধুলোর মেঘ ভেদ করে দেখা যায়।
মহাকাশে টেলিস্কোপ পাঠানোর কারণ হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আলোকে বাঁকিয়ে দেয় — তারা ঝলমল করে, ছবি ঝাপসা হয়। মহাকাশে এই সমস্যা নেই। তাই হাবল আর জেমস ওয়েব মহাকাশ থেকে এত স্পষ্ট ছবি তুলতে পারে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, টেলিস্কোপ আসলে সময় ভ্রমণের যন্ত্র। দূরের তারার আলো আসতে হাজার বছর লাগে — তাই আমরা আসলে হাজার বছর আগের মহাবিশ্ব দেখছি। টেলিস্কোপ যত শক্তিশালী, আমরা তত পুরনো মহাবিশ্ব দেখতে পাই!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!