মহাকাশে বরফের বস্তু কীভাবে থাকে?
পৃথিবীতে বরফ রোদে পড়লে গলে যায়। কিন্তু মহাকাশে বরফের বিশাল বিশাল বস্তু কোটি কোটি বছর ধরে টিকে আছে। কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর বেশ চমকপ্রদ।
মহাকাশে বরফ টিকে থাকার মূল কারণ হলো তাপমাত্রা আর অবস্থান। সৌরজগতের বাইরের দিকে — কুইপার বেল্ট আর ওর্ট ক্লাউডে — সূর্যের তাপ প্রায় পৌঁছায় না। সেখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ২০০ থেকে মাইনাস ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। এই অবিশ্বাস্য ঠান্ডায় পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন — সবই কঠিন বরফে পরিণত হয়ে থাকে।
মহাকাশের বরফ পৃথিবীর বরফের মতো নয়। এতে শুধু পানির বরফ নেই — মিথেন বরফ, কার্বন ডাই-অক্সাইড বরফ, অ্যামোনিয়া বরফ — সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মিশ্রণ। ধূমকেতুকে তাই "নোংরা তুষারবল" বলা হয় — বরফের সাথে ধুলো আর পাথরের টুকরো মিশে আছে।
কিন্তু বরফের বস্তু সূর্যের কাছে আসলে কী হয়? তখনই মজার ঘটনা ঘটে। সূর্যের তাপে বরফ সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় — তরল না হয়েই। এই প্রক্রিয়াকে বলে সাবলিমেশন। গ্যাস বের হওয়ার সাথে সাথে ধুলোও বেরিয়ে আসে — তৈরি হয় ধূমকেতুর উজ্জ্বল লেজ।
সৌরজগতের মধ্যে বরফ আছে অনেক জায়গায়। বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার পুরো পৃষ্ঠ বরফে ঢাকা — নিচে তরল সমুদ্র আছে বলে ধারণা। শনির চাঁদ এনসেলাডাস থেকে বরফের ফোয়ারা বের হচ্ছে। এমনকি বুধ গ্রহের মেরু অঞ্চলে ছায়াযুক্ত গর্তে বরফ আছে — যেখানে সূর্যের আলো কখনো পৌঁছায় না।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা মনে করেন পৃথিবীর পানির একটি বড় অংশ এসেছে মহাকাশের বরফ থেকে। কোটি বছর আগে ধূমকেতু আর গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করে বরফ নিয়ে এসেছিল — সেই বরফই গলে হয়েছে সমুদ্র। মানে আপনি যে পানি পান করছেন, তার কিছু অংশ হয়তো মহাকাশের কোনো ধূমকেতু থেকে এসেছে!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!