প্রথম পাতাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগ্রহাণু খনন (Asteroid Mining) সম্ভব কি?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

গ্রহাণু খনন (Asteroid Mining) সম্ভব কি?

গ্রহাণু খনন (Asteroid Mining) সম্ভব কি?

গ্রহাণু খনন (Asteroid Mining) সম্ভব কি?

পৃথিবীতে খনিজ সম্পদ সীমিত। লোহা, নিকেল, প্ল্যাটিনাম, সোনা — এগুলো একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু মহাকাশে অ্যাস্টেরয়েড বেল্টে আছে অকল্পনীয় পরিমাণ খনিজ। তাই বিজ্ঞানী আর উদ্যোক্তারা গুরুত্বের সাথে ভাবছেন — গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণ করা সম্ভব কিনা।

বিজ্ঞাপন

গ্রহাণুতে কী আছে? ধাতব গ্রহাণুতে আছে প্রচুর লোহা, নিকেল আর কোবাল্ট। কিছু গ্রহাণুতে আছে প্ল্যাটিনাম — পৃথিবীতে যা অত্যন্ত দুর্লভ আর মূল্যবান। "১৬ সাইকি" নামের একটি গ্রহাণুতে এত বেশি লোহা আর নিকেল আছে যে তার মূল্য হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার কোয়াড্রিলিয়ন ডলার — পৃথিবীর অর্থনীতির চেয়ে কোটি গুণ বেশি।

প্রযুক্তিগতভাবে কতটা সম্ভব? মূল চ্যালেঞ্জ হলো গ্রহাণুতে পৌঁছানো, সেখানে যন্ত্রপাতি বসানো আর খনিজ পৃথিবীতে আনা। শূন্য মহাকর্ষে খনন করা পৃথিবীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। জাপানের "হায়াবুসা-২" মহাকাশযান গ্রহাণু "রিউগু" থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে — এটা প্রমাণ করেছে গ্রহাণু থেকে পদার্থ আনা সম্ভব।

বেশ কিছু বেসরকারি কোম্পানি এই লক্ষ্যে কাজ করছে। আমেরিকার "প্ল্যানেটারি রিসোর্সেস" আর "ডিপ স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ" গ্রহাণু খননের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করেছে। লক্ষ্য হলো প্রথমে পানি আর অক্সিজেন সংগ্রহ করা — যা রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তারপর ধীরে ধীরে মূল্যবান ধাতু আহরণ।

তবে বড় সমস্যা হলো অর্থনৈতিক। এখন গ্রহাণু খনন করে পৃথিবীতে ধাতু আনার খরচ সেই ধাতুর মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। প্রযুক্তি আরও সস্তা না হলে এটা লাভজনক হবে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে মহাকাশে স্থায়ী বসতি তৈরি হলে গ্রহাণু খনন হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। পৃথিবী থেকে সব কিছু নিয়ে যাওয়া অসম্ভব — তখন মহাকাশের সম্পদ থেকেই সব তৈরি করতে হবে। গ্রহাণু খনন তাই সম্ভব — শুধু সময়ের অপেক্ষা!

০ মন্তব্য · ৯৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!