আপনি কি কখনো রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবেছেন এই বিশাল মহাবিশ্বের বেশিরভাগ জিনিসই কি আমরা দেখতে পাই না?
শুনুন। আমরা যা দেখি যেমন তারা, গ্রহ, গ্যালাক্সিরা মিলিয়ে মহাবিশ্বের মাত্র পাঁচ শতাংশ। বাকি পঁচানব্বই শতাংশ লুকানো। সেই লুকানো অংশের নাম ডার্ক ম্যাটার আর ডার্ক এনার্জি। আর ঠিক এই দুটো জিনিসই মহাবিশ্বের বেশ কয়েকটা বড় রহস্যের জবাব দিয়েছে।
প্রথমে ডার্ক ম্যাটার। গ্যালাক্সিগুলো ঘুরছে। কিন্তু হিসেব অনুযায়ী যে গতিতে ঘোরা উচিত, তার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ঘুরছে বাইরের তারাগুলো। যেন কোনো অদৃশ্য হাত তাদের ধরে রেখেছে। সেই অদৃশ্য হাতই ডার্ক ম্যাটার। এটা গ্যালাক্সির চারপাশে একটা অদৃশ্য জাল তৈরি করে, যার জন্য তারাগুলো ছিটকে যায় না।
আরও বড় কথা। মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি আর গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলো কীভাবে তৈরি হলো? শুধু সাধারণ পদার্থ দিয়ে সম্ভব না। ডার্ক ম্যাটারের মাধ্যাকর্ষণই সেই কাঠামো তৈরি করেছে, যার ওপর গ্যালাক্সিগুলো জন্ম নিয়েছে। বুলেট ক্লাস্টারের মতো ঘটনায় আমরা দেখেছি, দুই গ্যালাক্সি ক্লাস্টার সংঘর্ষে লিপ্ত হলে সাধারণ পদার্থ থেমে যায়, কিন্তু ডার্ক ম্যাটার সোজা চলে যায়। এটা প্রমাণ করে, ডার্ক ম্যাটার আলাদা কিছু।
এবার ডার্ক এনার্জি। মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীরা দেখলেন, প্রসারণ থামছে না, বরং দ্রুত হচ্ছে। যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি মহাবিশ্বকে বাইরের দিকে ঠেলছে। সেই শক্তিই ডার্ক এনার্জি। এটা মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিয়েছে। আর এটার জন্যই আজকের মহাবিশ্বের মডেল ল্যামডা সিডিএম এত ভালোভাবে মিলে যায়।
এভাবে ডার্ক ম্যাটার আর ডার্ক এনার্জি মিলে মহাবিশ্বের তিনটা বড় রহস্য সমাধান করেছে। গ্যালাক্সির অদ্ভুত ঘূর্ণন। বড় স্কেলের কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া। আর মহাবিশ্বের ত্বরিত প্রসারণ।
তবুও রহস্য শেষ হয়নি। আমরা এখনো জানি না ডার্ক ম্যাটার আসলে কী কণা। ডার্ক এনার্জি কোথা থেকে আসে। কিন্তু যেটুকু জেনেছি, সেটুকুই মহাবিশ্বকে নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। আমরা যেন শুধু আলোর পৃথিবীতে বাস করি না। অন্ধকারেরও একটা বিশাল রাজত্ব আছে। আর সেই রাজত্বই আজকের মহাবিশ্বকে বোঝার চাবিকাঠি।
#DarkMatter #Physics #UniverseMysteries #astronomyfacts #knowledge
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!