গ্যালাক্সির আকারের তুলনা
মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি আছে কোটি কোটি — আর প্রতিটির আকার একদম আলাদা। কোনোটা এতটাই ছোট যে আমাদের মিল্কিওয়ের পাশে বালির দানার মতো, কোনোটা এতটাই বিশাল যে মিল্কিওয়ে তার সামনে একটি ছোট্ট গ্রামের মতো।
সবচেয়ে ছোট গ্যালাক্সির নাম "ড্রাগনফ্লাই ৪৪"। আসলে সবচেয়ে ছোট গ্যালাক্সিগুলো হলো "আল্ট্রা-ফেইন্ট ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সি"। এগুলোতে মাত্র কয়েক হাজার থেকে কয়েক মিলিয়ন তারা থাকে। আমাদের মিল্কিওয়ের কাছেও এরকম ছোট গ্যালাক্সি আছে — যেমন "সেগ ওয়ান" যাতে মাত্র কয়েক হাজার তারা।
মাঝারি আকারের গ্যালাক্সি হলো আমাদের মিল্কিওয়ে। এতে আছে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন তারা, আর ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ। এটাকে আমরা বিশাল মনে করি, কিন্তু মহাবিশ্বের হিসেবে এটা মাঝারিই।
সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সিগুলো আকারে অকল্পনীয়। "IC ১১০১" নামের গ্যালাক্সিটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সিগুলোর একটি। এর ব্যাস প্রায় ৬০ লাখ আলোকবর্ষ — মিল্কিওয়ের ৬০ গুণ! এতে আছে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন তারা। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে আছে।
কাছের গ্যালাক্সির তুলনা করলেও মজার তথ্য পাওয়া যায়। আমাদের প্রতিবেশী অ্যান্ড্রোমিডা মিল্কিওয়ের চেয়ে প্রায় দুই গুণ বড় — এতে আছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন তারা। আর আমাদের কাছের ছোট গ্যালাক্সি "ম্যাগেলানিক ক্লাউড" মিল্কিওয়ের মাত্র এক ভাগের কয়েক ভাগ।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এত বিভিন্ন আকারের গ্যালাক্সিগুলো একা থাকে না — দলবদ্ধ হয়ে "গ্যালাক্সি ক্লাস্টার" তৈরি করে। আর সেই ক্লাস্টারগুলো মিলে তৈরি করে "সুপারক্লাস্টার"। মহাবিশ্বের এই বিশাল কাঠামো দেখলে মনে হয় — আমরা সত্যিই কতটা ছোট!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!